নতুনত্বের নেশা থেকে নিস্পৃহতার শূন্যতায় (১ম অংশ)

ভোরেরআলো বিডিডেস্কঃ

“”””””””””””””””””””””””””

লেখক: হাবিব আহমেদ (বিশিষ্ট সমাজ চিন্তক)

“”””””””””””””””””””””””””””””””””””””””

(প্রিয় পাঠক,সবার জীবনে কিছু অলিখিত কথা থেকে যায় তার মনের গহীনে। চিরতরে হারিয়ে যাবার আগেই আমার অলিখিত কথাগুলোর আংশিক বলে যেতে চাই আপনাদের মাঝে–) 

আমি একজন পথচারী—একজন মানুষ, যার পথচলা শুরু হয়েছিল এক টুকরো কাগজে লেখা একটি ডিগ্রি হাতে নিয়ে। খুব অল্প বয়সেই বুঝেছিলাম, চার দেয়ালের ভেতরে শেখা জ্ঞান কখনো পূর্ণ জ্ঞান নয়। বই মানুষকে পথ দেখায়, কিন্তু পথের ধুলো, নদীর স্রোত, পাহাড়ের নীরবতা আর মানুষের চোখের ভাষা মানুষকে অন্য এক শিক্ষা দেয়। সেই শিক্ষার খোঁজেই একদিন বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে পড়েছিলাম।
ছোটবেলা থেকেই আমার মনে হতো—পৃথিবীটা একটা বিশাল বই, আর আমি যদি এক জায়গায় বসে থাকি, তাহলে তার একটি পাতাও সম্পূর্ণ পড়া হবে না। তাই শুরু হয়েছিল আমার বাউন্ডুলে জীবন।
দুবাইয়ের স্বপ্নিল মরুভূমি, আবুধাবির আকাশছোঁয়া অট্টালিকা, আলোয় মোড়া রাজপথ—প্রথমবার যখন সেখানে পা রেখেছিলাম, মনে হয়েছিল পৃথিবীর সমস্ত সৌন্দর্য বুঝি এই শহরগুলোর বুকেই বন্দী। বিস্ময়ে চোখ সরাতে পারতাম না। মনে হতো, মানুষ কী অসাধারণ সব সৃষ্টি করতে পারে! বছরের পর বছর কেটে গেল সেখানের মায়াবী আকর্ষণে।
প্রায় ত্রিশ বছর পর আবার সেখানে যাওয়ার সুযোগ হলো। দেখলাম, শহরগুলো আরও বড় হয়েছে, আরও উজ্জ্বল হয়েছে, আরও চকচকে হয়েছে। ভালোও লাগল, কিন্তু সেই প্রথম দেখার মাতাল করা বিস্ময়টা আর ফিরে এল না।
তখন বুঝলাম—মানুষের তৈরি সৌন্দর্যেরও বয়স হয়। মানুষ যা সৃষ্টি করে, একদিন তা অভ্যাস হয়ে যায়, পুরোনো হয়ে যায়, বিস্ময়ের তীব্রতা হারিয়ে ফেলে। (চলামান…২)
-হাবীব, 08.07.26

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *