নতুনত্বের নেশা থেকে নিস্পৃহতার শূন্যতায় (২য় অংশ)

হাবীব আহমেদ (বিশিষ্ট লেখক ও চিন্তক)

============================

তখন বুঝলাম—মানুষের তৈরি সৌন্দর্যেরও বয়স হয়। মানুষ যা সৃষ্টি করে, একদিন তা অভ্যাস হয়ে যায়, পুরোনো হয়ে যায়, বিস্ময়ের তীব্রতা হারিয়ে ফেলে।

(চলামান…২)

কিন্তু প্রকৃতি? প্রকৃতি কখনো পুরোনো হয় না।
গারো পাহাড়ে গিয়ে গারোদের সঙ্গে কাটানো দিনগুলো আজও আমার কাছে তাজা। তাদের সরলতা, তাদের হাসি, তাদের পাহাড়ি জীবন, তাদের আকাশভরা স্বপ্ন—সবকিছু আমাকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছিল। পাহাড়ের চূড়ায় সূর্য প্রতিদিন একইভাবে ওঠে, কিন্তু কখনো একইরকম লাগে না। নদীর জলে একই ঢেউ দ্বিতীয়বার ফিরে আসে না। কুয়াশা প্রতিদিন নামে, অথচ প্রতিটি সকালই নতুন। প্রকৃতি মানুষকে কখনো প্রতারণা করে না।
আমার জীবনের বড় সৌভাগ্য ছিল, আমি শুধু শহর আর প্রকৃতি নয়, মানুষকেও কাছ থেকে দেখার সুযোগ পেয়েছি।
হিমালয়ের পাদদেশে নাগাদের সঙ্গে কাটিয়েছি বেশ কিছু সময়। তাদের জীবন যেন ঘড়ির কাঁটায় চলে না; চলে সূর্য ওঠা আর সূর্য ডোবার ছন্দে। তারা আমাকে শিখিয়েছে—আকাশ যত উঁচুই হোক, তার নিচে মাথা নত করেই মানুষ সবচেয়ে বেশি শান্তি পায়।
মরুভূমির বেদুইনদের সঙ্গে থেকেছি। তারার আলো দেখে তারা পথ চিনত। তারা বলত, বালুর নিচে যেমন পানি লুকিয়ে থাকে, তেমনি মানুষের কঠোরতার নিচেও কোথাও না কোথাও ভালোবাসা লুকিয়ে থাকে—শুধু খুঁজে নিতে জানতে হয়।
পাঠানদের আতিথেয়তা আমাকে বিস্মিত করেছে। অতিথিকে তারা আল্লাহর মেহমান মনে করে। কেরালার শান্ত নদীকূল, সিংহলীদের হাসি, আফগানদের চোখের গভীর বিষাদ, আসাম ও সিলেটের চা-বাগানের শ্রমিকদের ঘামে মিশে থাকা জীবনসংগ্রাম—সবকিছুই আমায় মানুষকে নতুন করে চিনিয়েছে। (চলমান…৩)
-হাবীব,09.07.2026

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *