মিঠামইনের বেড়িবাঁধের কাছে বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে হত্যা! গ্রেফতার-৩

রেজাউল হাবিব রেজা 

কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি  জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরকে (৫৮) প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করেছে দূর্বৃত্তরা।  ঘটনায় জড়িত ঢাকা থেকে ভাড়া করে আনা তিন হামলাকারীকে গ্রেপ্তার করেছে কিশোরগঞ্জ  জেলা পুলিশ।
বুধবার (১৫ জুলাই) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে উপজেলার কামালপুর বেড়িবাঁধ এলাকায় নিজ বাড়ির সামনে এই নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।  জাহাঙ্গীরকে বাঁচাতে  গিয়ে গুরুতর জখম হন স্থানীয় বিএনপি কর্মী হাদিস মিয়া (৩৮)। জটিল অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃত তিন জন হলেন: বরগুনা জেলার বামনা উপজেলার চালিতাবুনিয়া এলাকার মৃত সুলতানের ছেলে মো: হেলাল (২৫), লক্ষীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার দুধরাজপুর এলাকার নূর হোসেনের ছেলে মো: মহিন উদ্দিন (৩২) ও একই উপজেলার নাগমুদ বাজার মধ্যপাড়া এলাকার রহমত উল্লাহ ওরফে খোকনের ছেলে মো: শাকিল হোসেন ওরফে শাহীন (২৫)।
ঘটনা: মিঠামইন উপজেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক আবদুল আওয়াল সাংবাদিকদের জানান, রাতে বাজার হতে নিজ বাড়ি পিরছিলেন জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর। তার সঙ্গে ছিলেন বিএনপি কর্মী হাদিস মিয়া। তারা বাড়ির কাছাকাছি পৌঁছলে সেখানে আগে থেকে ও্যুঁৎ পেতে থাকা ৩/৪ জন ব্যক্তি ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং উপর্যুপরি কোপাতে থাকে। এলোপাতাড়িভাবে কুপিয়ে জখম করে তারা পালিয়ে যায়। পরে জাহাঙ্গীরকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে তার মৃত্যু হয়।
পুলিশ জানায়, বুধবার রাত পৌনে ১০টার দিকে মিঠামইন সদরের বেড়িবাঁধ এলাকায় নিজ বাসার সামনে জাহাঙ্গীরকে ও তার সঙ্গী হাদিসকে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে। এ অবস্থায় প্রথমে তাদেরকে মিঠামইন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। অবস্থা জটিল দেখে উন্নত চিকিৎসা পেতে কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর কর্তব্যরত ডাক্তার রাত সাড়ে ১১টার দিকে জাহাঙ্গীরকে মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে পৌঁছেন এবং একাধিক অভিযান পরিচালনা করে তিনজনকে ধরতে সক্ষম হন। এ সময় হত্যায় ব্যবহৃত একটি চাপাতি উদ্ধার করেন পুলিশ। পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন,

আসামী যেই হোকনা কেন, কাউকেই ছাড় দেয়া হবেনা। হত্যাকান্ডের নেপথ্যে যারা রয়েছে তা উদ্ঘাটনে পুলিশ সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, আমরা তিনজনকে আটক করতে পেরেছি।
নিহত জাহাঙ্গীর বেড়িবাঁধের কয়েকটি মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগে তার সাংগঠনিক পদ স্থগিত করেছিল কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এবং এই গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে গত ২৫ ফেব্রুয়ারী তাকে আটক করে কারাগারে পাঠিয়েছিল। প্রায় ১মাস কারা বোগের পর তিনি জামিনে মুক্তি পেয়েছিলেন। মুক্তিপাবার ৪ মাসের ব্যবধানে তিনি নৃশংসভাবে কুনের শিকার হলেন।

জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে যে, দূরবৃত্তরা কোন নিশ্চয়তায় দূর জেলা হতে আগমন করে নিহতের বাড়ির কাছেই এসে কোপানোর সাহস পেলেন? কোপালেন নিহতের সঙ্গীকেও! খুনিরা তাদের সাথে শত্রুতা থাকার কথা নয়। এতে সহজেই অনুমেয় যে তারা কেবল অর্থের বিনিময়েি একাজ করতে পারে। নিশ্চয়ই এর আগে খুনিরা মোটা অংকের বিনিময়ের এরকম দু:সাহস দেখাতে পারে। আর ঘটনা ঘটানোর জন্য আগে থেকেই হয়তো কয়েকবার রেকি করা আছে। তা নাহলে দূর্বৃত্তরা এক পরিচিত লোকের মতোই তাদের চেনা রাস্তায় এভাবে ওঁৎ পেতে থাকা ও জখম করার দু:সাহস হতোনা। বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্ত হোক এবং ধৃতরা কঠিন বিচারের সম্মূখীন হোক। তারা যেন কোনো আিনের ফাঁক-ফোকর দিয়ে বের হতে না পারে।

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *